
কলেজ থেকে বাসায় ফিরলাম। দরজার কাছে এসে কলিং বেল চাপ দিলাম। দরজা খুলতেই দেখলাম এক বড় আপু দরজাটা খুলে আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আমি ভাবলাম অন্য কারো দরজায় ভুল করে এসে পরছি। আমি বেশ অবাক।কারণ এর আগে কখনো দেখিনি। মায়াবী চোখ, সবচেয়ে সুন্দর হলো তার হাসি, গালে টোলপড়া মেয়েদের হাসি আরো কিউট লাগে। চুলের ঘ্রাণ আমার নাকে লাগতেছে। যদিও আমার সর্দি তারপরও ঘ্রাণে আমি শেষ। আমি ভাবনার জগতে চলে গেলাম। হঠাৎ উনি আমাকে ডাক দিয়ে বললোঃ ___এইভাবে তাকিয়ে কি দেখছো? আমি বললামঃ ___সরি ভুল জায়গায় এসে পড়ছি। আসলে কলেজে থেকে আসছি মাথা ঠিক নাই। আমার কথা শুনে উনি আরো হাসতে লাগলো। তারপর হাসি থামিয়ে বললোঃ ___এটা তোমাদেরই বাসা আমি তোমার মায়ের কাছে আসছি। আমি তোমাদের বাসার নতুন ভাড়াটিয়া তাই সবার সাথে পরিচিত হতে আসছি। ভালোই হলো তোমার সাথে দেখা হয়ে। আচ্ছা তোমার নামটা জানি কি..? আমি আমতা আমতা করে বললামঃ ___জ্বী আমার নামঃ জাহিদ। আপনার নাম কি? ___আমার নাম সারা। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি তোমার থেকে অনেক সিনিয়র। মনেমনে বলতেছি সিনিয়র তো কি হইছে আপনাকে আমার ভালো লেগে গেছে। বড় টড় বুঝি না। আমার ভাবাভাবি দেখে উনি বললোঃ ___ঐদিক তাকিয়ে কি ভাবছো..? আমি মুখ ফিরিয়ে বললামঃ ___না না কিছু না,। ___আচ্ছা আমি তাহলে আসি। ___আরেকটু থেকে গেলে ভালো হত। (ফিসফিস করে) ___জাহিদ কিছু বলছো? ___না না, কিছু বলি নাই। আমি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে উনার চলে যাওয়ার দৃশ্যটা দেখছি আর ভাবছি। মানুষের হাসি এত সুন্দর হয় কিভাবে? সবাই মেয়েদের কিছু না কিছু দেখে প্রেম করে। আমি সারা আপুর হাসি দেখেই প্রেমে পড়ে গেছি। গালে টোলপড়া মেয়েদের হাসি অনেকটা সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। যদি এই হাসিটা সবসময় দেখতে পেতাম। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই পিছন থেকে আম্মু এসে বললোঃ ___ কিরে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ___ এইতো মা দেখছিলাম। ___কি এমন জিনিস দেখছিলি বাপ যার জন্য বাসার ভিতরে না এসে দরজায় দাঁড়িয়ে দেখছিস? ___ও তুমি বুঝবা না মা। আমি পেয়ে গেছি। ___কি সব পাগলামি কথা বলিস বুঝি না। সেদিনই ঠিক করে ফেলি সারা আপুর কাছে প্রাইভেট পড়তে হবে। আর প্রাইভেট পড়লেই সারা আপুকে কাছ থেকে দেখতে পাবো। যেভাবেই হোক উনাকে ম্যানেজ করতে হবে। এইভাবেই আস্তে আস্তে উনার কাছে যাওয়া হবে। একটা আইডিয়া মাথায় আসছে। মাকে একটা কথা বললামঃ ___মা সামনে আমার পরিক্ষা প্রাইভেট পড়া দরকার। আমার কথা শুনে মা বললোঃ ___প্রাইভেট পড়বি ভালো কথা কিন্তু বাসায় এসে পড়াবে এমন কাউকে পাবি কই? ___আছে তো, ঐযে সারা আপু। ___ঐ মেয়ের সাথে কখন দেখা হলো? আচ্ছা সারা কি তোকে পড়াবে? ___মা তুমি বললে নিশ্চয় পড়াবে। ___আচ্ছা তাহলে আমি সারাকে বলে দেখি। ___কখন যাবে? ___যাওয়ার সময় তোকে বলে যাবো। মায়ের কথা শুনে আমি খুশিতে আত্মহারা। এতখুশি এর আগে হইছি বলে মনে হয় না। আজ রাতে যখন জানতে পারলাম সারা আপু মাকে বলে দিছে সে পড়াবে। আমি তখন খুশিতে বিছানায় গড়াগড়ি করতে লাগলাম। বললো প্রতিদিন বিকেলে এসে পড়াবে। সারা আপু আমাকে পড়াতে আসবে তাই রুমটাকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নতুনের মত করলাম। নিজেকে সারা আপুর কাছে অন্যরকম করে তুলার চেষ্টা করবো। আজ কলেজ শেষ করে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে অনেক আগ থেকেই টেবিলে বসে আছি। হঠাৎ একটা হাতের ছোঁয়া আমার স্পর্শ করলো। চোখ খুলে দেখি সারা আপু। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছে না বলে হাত দিয়ে চোখ ডলে তারপর দেখলাম, না ঠিক আছে সারা আপুই। আমার কাজকর্ম দেখে উনি হি হি হি করে হাসছে। আমি সারা আপুকে বললামঃ ___আপু আমাকে একটা চিমটি দিবেন? উনি অনেকটা আশ্চর্য হয়ে বললেনঃ ___চিমটি দিতে হবে কেন? ___আমার যে বিশ্বাস হচ্ছে না। ___তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো সব ঠিক হয়ে যাবে। ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলাম সারা আপু আমার ডায়রিটা পড়ছে। আমি দৌড়ে এসে ডায়রিটা উনার হাত থেকে নিয়ে নিলাম। ___কি হলো ডায়রিটা দেও দেখি। ___এসব দেখে কি হবে আপু থাক না এসব। ___তুমি যদি ডায়রিটা না দেও তাহলে আমি চলে যাব। এই কথা শুনার পর সাথে সাথে ডায়রিটা দিয়ে দিলাম। সারা আপু ডায়রিটা মন দিয়ে পড়ছে হঠাৎ একটা পাতায় এসে আটকে গেলো। তাতে লেখা ছিলো ‘অনেকদিন ধরে যাকে খোঁজেছি আজ আমি তাকে পেয়েছি’। সারা আপু ডায়রিটা বন্ধ করে আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে বললোঃ ___এসব কি জাহিদ? পড়ালেখার মাঝে প্রেম টেম করা ভালো না। এদিকে এসো আর পড়তে বসো। আমি চুপচাপ উনার কথা শুনে গেলাম আর মন দিয়ে পড়ছিলাম। কিন্তু আমি তো চুপ থাকতে পারি না। অমনি মুখ থেকে ফসকে বের হয়ে গেলো একটি কথা। ___আচ্ছা আপু আপনি কি প্রেম করছেন? ___পড়ালেখার সময় পড়ালেখা, প্রেমের সময় প্রেম। ___আপু প্রেমের সময় কখন? ___আগে বড় হও তারপর। ___আচ্ছা আপু ছোট হয়ে কি বড়দের সাথে প্রেম করা যায় না? ___হ্যা যায়,,, কি বললা?? ___না মানে বলছিলাম। ধরুন আপনাকে আমার অনেক ভালো লাগছে। আপনাকে আমি খুব ভালোবাসি। এটা কি অন্যায় হবে? ___পড়ালেখা বাদ দিয়ে দিনদিন এসব পাকনামি শিখা হচ্ছে। দাড়াও তোমার মায়ের কাছে বিচার না দিলে তুমি ঠিক হবে না। ___এইযে আপু আমি আপনাকে ধরতে বলছি। সত্যি সত্যি বলি নাই। ___তোর পাকনামি দেখে মনে হচ্ছে তুই আমার থেকে বড় আর আমি ছোট। আমি কোনোকথা না বলে চুপচাপ সারা আপুর পড়া পড়তেছি। উনি আমার থেকে একটু বয়সে বড় হবে। আমি ভাবলাম বয়স একটা ফ্যাক্ট না। যাকে ভালো লাগে,যাকে প্রথম দেখার পর এক নিমিষে তার হাসি দেখে প্রেম পড়ে গেছি সে যদি দশ বছরের বড় হয় তারপরও আমি তাকে ভালোবাসবো। পরেরদিন কলেজে যাবো বের হইছি গেইট থেকে বের হতেই দেখি সারা আপু দাঁড়িয়ে আছে রিক্সার জন্য। ___আপু আপনি কোথায় যাবেন? ___শপিং এ যাবো। ___চলেন আমরা একসাথেই যাই। আমাদের কলেজ পেরুলেই তো শপিং মার্কেট। ___জাহিদ তোমার পাকনামো কিন্তু দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। আমি মন খারাপ করে উনার পাশ থেকে হেটে হেটে চলে যাচ্ছিলাম। একটু সামনে এগুতেই সারা আপু রিক্সা নিয়ে আমার সামনে উপস্থিত। ___এইযে স্যার উঠেন। কেউ রাগ করলে আমার ভালো লাগে না। ___না থাক আমি হেটেই যেতে পারবো। আপনি চলে যান। ___আরেকটা কথা বললে একটা থাপ্পড় দিবো। উঠো বলছি। রিক্সায় উঠেও আমি মন খারাপ করে বসে আছি দেখি সারা আপু আমাকে কিছু বলে কি না। আমার মন খারাপ দেখে একপর্যায়ে সারা আপু বললোঃ ___এখনো কি তোমার মন খারাপ?? আমি মনেমনে বললাম মন খারাপ তো আমি এমনিতেই করছি যাতে আপনি আমাকে আদর করে রিক্সায় উঠান। আমার মুখ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে সারা আপু আমারে স্পর্শ করে বললোঃ ___জাহিদ কথা বলছো না কেন? ___ না মানে আমি ভাবতেছি আজকে আর কলেজে যাবো না। আপনার সাথে শপিং এ যাবো। আমার কথাটা শুনার পর উনি আমাকে রিক্সা থেকে জোর করে নামিয়ে দিলো। অবশ্য কলেজ একটু সামনেই। সারা আপু আমার দিকে তাকিয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বললো কলেজে যেতে এবং কলেজ শেষে সোজা বাসায় আসতে। আমি সারা আপুর কথামত কলেজ শেষে সোজা বাসায় আসলাম। আজ বিকেলে আবার পড়াতে আসবে সেই আশায় আমার সময় কাটেনা। একটুপর আসলো। আসতেই আমি বললামঃ ___আপু আপনাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে। মনেমনে ভাবতেছি এই সুযোগে বলে ফেলি আমার মনের কথা। ___থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ। (মেয়েদেরকে যত বলা যায় সুন্দর তারা ততই খুশি হয়। বেশি বলে ফেললে আবার পাম মনে করে। তাই আপনারা সাবধানে বইলেন।) আমি কোনকিছু বিবেচনা না করে সোজাসুজি বলে দিলাম। ___সারা আপু আই লাভ ইউ। আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি। যেদিন প্রথম কলেজ থেকে বাসায় ফিরে দেখি আপনাকে ঠিক সেদিন থেকেই ভালোবাসি। সারা আপু অনেক ভেবেচিন্তে বললোঃ ___এটা ভালোবাসা না রে পাগল এটা আবেগ। তুমি মন দিয়ে পড়ালেখা করো দেখবে একদিন আমার চেয়ে অনেক সুন্দরি পাবে। আর আমি তো তোমার চেয়ে অনেক সিনিয়র। সারা আপু আমাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু আমার কথা হলো আমি সারা আপুকেই ভালোবাসি। সেদিন আর পড়া হয় নি। আজ সারা আপু পড়াতে আসছে কিন্তু আমাকে রুমে পেলো না। আমি ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ পিছন থেকে কে জানি আমার নাম ধরে ডাক দিলো। পিছন তাকিয়ে দেখি সারা আপু। উনি আমার অবস্থা দেখে বুঝে গেছে যে উনাকে না পেলে আমার জীবনটাই বৃথা। উনি এও জানতে পারছে যে উনাকে কাছ থেকে দেখার জন্যই প্রাইভেট পড়া। যেখানেই উনি সেখানেই আমি। এতদিন যেখানে সারা আপু গেছে সেখানেই আমি গেছি। যত গুরুত্বপূর্ণ কাজই হোক না কেন সারা আপুর জন্য সবকিছু তুচ্ছ করে দিয়েছি। তারপর সারা আপু কাছে এসে বললোঃ ___তুই আমাকে এত ভালোবাসিস?? আমাকে বিয়ে করবি?? আমি কোনোকিছু চিন্তা না করে সোজাভাবে বলে দিলাম। ___আপনি চাইলে এক্ষুণি বিয়ে করে ফেলবো। ___ বিয়ের পর কি খাওয়াবি আমায়?? ___আমি যা খাই তাই খাওয়াবো। দরকার পরলে আমি না খেয়ে হলেও আপনাকে খাওয়াবো। ___আমাদের সম্পর্ক কি তোমার মা-বাবা মানবে? একদিন মা-বাবা আমাকে বলছিলো আমার সুখই তাদের সুখ। এখন যদি মা-বাবাকে বলি যে আমি সারা আপুকে বিয়ে করলে সুখী থাকবো তাহলে আমার মা-বাবা না করবে না। আমার কথাগুলো শুনে সারা আপু আমার দিকে রাগ করে তাকিয়ে আছে। আমি নরম গলায় বললামঃ ___এইভাবে রাগ করে তাকিয়ে আছেন কেনো?? ___এখনো কি আমাকে সারা আপু বলে ডাকবে? ___অহ, সরি মেডাম। ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দিন।