গল্প লিখে পাঠাতে মেসেজ করুণ এখানে

সচেতন মূলক রোমান্টিক গল্প



৭ বছরের ছেলেকে বগলদাবা করে নিয়ে এসে ধপাস করে বিছানায় ফেললো ছেলের বাপ।
আমি শব্দ শুনে খুন্তি হাতে দৌড়ে গিয়ে ছেলের বাপ কে জিজ্ঞেস করলাম বাচ্চারে ওমন করে ফেল্লা কেন?ও কি বস্তা?
ছেলের বাপ আমার দিকে রাগান্বিত ভাবে তাকিয়ে বললেন,ছেলেরেতো ট্রেনিং দিছো।
কি ট্রেনিং দিলাম?

এই যে গোয়ান্দাগিরীর। নিয়া গেলাম বাইরে,দেখা হইল রফিকের বউর সাথে। হাসি মুখ নিয়া কথা বলতেছি তোমার ছেলে আমারে বলতেছে বাবা মহিলাদের সাথে এত কথা কি? বাসায় গিয়া নেই দাড়াও মা কে সব বলবো।
আমি ছেলের দিকে তাকিয়ে হে হে করে হেসেদিলাম।

ছেলের বাপ আমার দিক তাকিয়ে বললো বেক্কলের মতন হাসার কিছু নাই।নিজে যেদিন এমন মাইনকার চিপায় পরবা সেদিন বুঝবা।

আমি চোখ গরম করে বললাম,কতদিন বলছি লাবিব,বাচ্চার সামনে গুন্ডার মতন কথা বলবানা।
ছেলের বাপ তাও মাইরা চইলা গেলেও ছেলে ঠিক আমায় জিজ্ঞেস করলো,মা মাইনকার চিপা কি?
আমি উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,তোমার বাবা মহিলার সাথে বেশি হেসে হেসে কথা বলছে?
আনাফ উঠে বলে,খালি হেসে না মা সব দাঁত বের করে।বাবারে আমার সুবিধার মনে হচ্ছেনা মা।
আমি মনের কষ্টে রান্নাঘরে চলে গেলাম।

ছেলেকে আমি বাচ্চা থেকেই সচেতন করতে চাই।যেটা আমার মা হিসেবে করা উচিৎ। মাঝে মাঝেই ক্রাইম অনুষ্ঠান দেখি দুজন মিলে।তার জানা উচিৎ দুনিয়া কত খারাপ।আনাফ কে আমি বলেছি বাবা দুনিয়ায় মা কে ছাড়া কোন মেয়েকে জড়িয়ে ধরা যায়না। এমন কি বাবা ছাড়া কোন ছেলে বা পুরুষ তোমায় ধরতে এলেও তুমি তাদের কাছে যাবে না।আমাকে এসে বলবে।

ছেলেরে সচেতনার উক্তি দিয়াও মসিবত এ পরলাম।বাসার সকল মেহমান এর মাঝে বসে বলে দিল,মা ফুলি বুয়া কি জানেনা বাবা ছাড়া কাউরে জড়িয়ে ধরা যায়না? সে ছাদে বসে দারোয়ান ভাইরে জড়িয়ে ধরলো।

ছেলের বাপ দেখলাম লজ্জায় তাও মেরে চলে গেল।এমন কি আর নতুন হয়েছে!সেদিন আমার বাবার সামনে এসে বললো নানুভাই আমার ক্লাসমেট মেয়ে পিংকি মেয়েটারে ভালো মনে হয়না।

বাবাও হেসে জিজ্ঞেস করলো কেন?বলে আমার গাল ধরে টান দিছে।বজ্জাত মেয়ে।
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জাই পেয়েছিল।এই ছেলেরে আর আমি ক্রাইম অনুষ্ঠান দেখাই না।কিন্তু ওই যে একবার মটিভেশন দিয়া ফালাইছি তা আর সে ভুলেনা।

ছেলেরে হাসপাতাল নিয়া গেলাম সুন্নতে খাৎনা করাবার জন্য। ছেলের আব্বা ছেলের হাত ধরে আছে।ছেলে ভয়ে লাল হয়ে আছে।আমি বার বার মটিভেশন দিতে গিয়েও পারছিনা। ছেলের যে চোপা পরে কিনা ভরা সমাজে আমার নাকে কালি দেয়। ছেলের আব্বা দাঁত কেলায়া বললো আব্বাজান ভয় পাওয়ার কুনো কারন নাই।ছেলে বাপের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,বাবা নিজে জীবনে করছেন মুসলমানি? তা তো করেন না।আসেন নিজে শুইয়া দেখেন তো! তা পারবেন না। যেইদিন মাইনকার চিপায় পরবেন সেইদিন বুঝবেন।

ছেলের বাপ মাথা নিচু করে আছে।সেবক-সেবিকারা খিল খিল করে হাসছেন। আমি ছেলের বাপের পিঠে চিমটি কেটে দাঁতে দাঁত চেপে বললাম,আরো বলেন গুন্ডামী কথা। ছেলেরে গুন্ডা ভাষা শিখান।

আজ ছেলের বাপ খুব সুন্দর মুডে আছে।তার পছন্দের সুটকি ভর্তা বানিয়েছি। সে অতি আনন্দে চৈতন্য হয়ে আমার গালে হাত দিয়ে বলে ওলে আমার বউ টা। এরই মাঝে আমার ছেলে লুঙ্গী খোলা খোলা অবস্থায় ধরে এসে বলতেছে,বাবা মা কে ধরো কেন?আমার মা কে আমি ছাড়া কেউ ধরতে পারবেনা।
ছেলের বাপ আমায় ধমক দিয়া বললো পানি দেও এত ঝাল কেউ দেয় ভর্তায়?

রাতে ছেলেকে জাপ্টায়া ধরে শুয়ে আছি।ছেলের অতিমাত্রায় সচেতনার কারনে ছেলের বাপ আলাদা রুমে ঘুমায়।ছেলেরে বললাম আব্বা রাতে লুঙ্গি সামলাতে পারবানা।পায়ের কাছে রাইখা ঘুমাও।মায়ের বানী। ছেলেও পায়ের কাছে রাইখা ঘুমাইল।

ভোর রাতে ছেলের আব্বা নায়ক ইলিয়াসকাঞ্চন এর মতন অতিরিক্ত রোমান্টিক মুডে চুরে করে আমার কাছে আসলো।দুনিয়ায় এই প্রথম কোন বাপ ছেলের ভয়ে চুরি করে নিজের বেড রুমে আসে।আমার পাশে শুয়ে আমার হাত খান কেবল অতি আবেগে ধরে বলে বউ আজ ভর্তাটা আসলেই মজার ছিল।

এমন সময় ছেলে সজাগ হয়ে অন্ধকারে উঠে বললো কে কে ওখানে?
ছেলের বাপ ভয় পেয়ে ধপাস করে বিছানার নিচে পরে হামাগুরি দিয়ে খাটের তলায় ঢুকে গেল
আনাফ: মা কিসের শব্দ আসলো?

আমি আনাফকে আবার শুয়িয়ে দিয়ে বললাম আব্বা তোমার লুঙ্গি টা নিচে পরে গেছে তার শব্দ।
আনাফ ও আবার আমায় ধরে শুয়ে শুয়ে বলছে আম্মা আমার মনে হয় লুঙ্গির ভিতরে কেউ ছিল।
আমি: আনাফ পাক্নামি করোনা।ঘুমাও
আনাফ: আম্মা আমার একটা ভাই এনে দেও। দুজন মিলে তোমায় পাহারা দিবো।
ছেলের বাপ খাটের তলা থেকে কিটিমিটি দিয়া বলতেছে,ভাই আনবে কেমনে রে বেটা? তর জ্বালায় তো মাইনকার চিপায় আটকায়া আছি।
আনাফ: মা শুনলা আব্বার মতন কন্ঠনা? আমার ভাই লাগবেই মা।
আমি: আচ্ছা হাসপাতাল থেকে এনে দিব।

বাচ্চার বাপ আবার ফ্যাস ফ্যাস করে বলতেছে বুঝাও ছেলেরে আরো ভুগোল বুঝাও
আনাফ: মা আমি একদম শিওর বাবা আছে এই রুমে। ওই লুঙ্গির ভিতর বাবা ই ছিল মা।আজ সারারাত ঘুমাবো না।বাবারে পাকরাও করবো হাতে না হাতে ছেলের বাপ আর সইতে না পেরে খাটের তলা দিয়ে হামাগুরি দিয়ে বের হয়ে,লাইট অন করে আমার দিকে তাকিয়ে বলছে,বানাও পোলারে আরো সচেতন বানাও।

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.